দুর্ভাগ্য যেন রাঙামাটিবাসীর পিছু ছাড়ছে না! জেলার উন্নয়নের স্বপ্নপথে আবারও অমানিশা

আনোয়ার আল হক
| প্রিন্ট সংস্করণ
 ছবি:
ছবি:

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥
দুর্ভাগ্য যেন রাঙামাটিবাসীর পিছু ছাড়ছে না। দেশের আর ৬৪ জেলার মধ্যে আক্ষরিক অর্থেই পিছিয়ে রয়েছে পার্বত্য তিন জেলা। কি উন্নয়ন, কি অগ্রগতি, সামাজিক বা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই তিন পার্বত্য জেলা পিছিয়ে ছিল শতাব্দী কাল ধরেই। অথচ লীলাময়ী প্রকৃতি আপন হাতে এখানে ছড়িয়ে রেখেছেন নানা ধনভান্ডার। কিন্তু সেই ধনভান্ডারই হয়তো এ এলাকার মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দেশি বিদেশি নানা খেলোয়াড় বিভিন্ন আঙ্গিকে সক্রিয় পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে। তিন জেলার মধ্যে আবার রাঙামাটিবাসীর ভাগ্য আরো অপ্রসন্ন। মাতৃজেলা হয়েও এই জেলা পার্বত্য চুক্তির ২৯ বছরেও উন্নয়নের পথে হাটতে পারেনি। এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা যেমন দায়ী, তেমনি সরকারের সদিচ্ছাও কোনো অংশে কম দায়ী নয়। চুক্তির পর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রথমবারের মতো একজন মন্ত্রী পেয়েছিল রাঙামাটি। সেই সম্ভাবনাও যেন কপালে সইলোনা। সৎ, সজ্জন এবং ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সেই নক্ষত্র অকালেই ঝরে গেলো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ যেন রাঙামাটিবাসীর স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিলো। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। বিপুল জয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে পাহাড়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও তুমুল আলোচনা চলছে। এ দিয়ে ফেসবুকে পোস্টের অন্ত নেই।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’

বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো সোমবার এ খবর ছড়িয়ে পড়লে, মানুষ খুব অল্প সময়েই কিংকর্তব্যবিমুড় ছিল। পরক্ষণেই তারা জেগে উঠে, রাস্তায় নেমে আসে দীপেন দেওয়ানের অগণিত সমর্থক। তাদের সকলের কণ্ঠে একটাই জিজ্ঞাসা ছিল। এটা কি গভীর কোনো ষড়যন্ত্রেরই অংশ নাকি, দীপেন দেওয়ানের অসহিষ্ণুতা রাঙামাটির মানুষকে আশাহত করলো।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার তাঁর অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন, তিনি কয়েক দিন আগে তিন পার্বত্য জেলা চষে বেরিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন, একদিন আগেও আমরা কথা বলেছি, তিনি ভালো ছিলেন; এক রাতে কি থেকে কি হয়ে গেলো।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান। মঙ্গলবার সকালে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের সুপারিশকে কেন্দ্র করেই পদত্যাগ করতে হয়েছে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে।

ফেসবুক পোস্টে মনীষ দেওয়ান লিখেছেন, ‘এ মুহূর্তে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সত্যকথনের জরুরি দরকার। দীপেন দেওয়ান তাঁর মন্ত্রীত্ব হারিয়েছেন শুধুমাত্র একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন আমাকে।’ তিনি লেখেন, ‘পার্বত্য মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) ব্যারিস্টার মীর হেলাল চেয়েছিলেন, দীপেন তালুকদার দিপু, সভাপতি, জেলা বিএনপিকে।

মনীষ দেওয়ান আরও লেখেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে সুপারিশের এই দ্বন্দ্বে আমাদের পূর্ণ মন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রিয় নেতা, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত দীপন দেওয়ান হেরে গেছেন। শুধু তা–ই নয়, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে। আমি এ বিচারের ভার দেশপ্রেমী পার্বত্যবাসী ও দেশবাসীর উদ্দেশে নিবেদন করলাম।’

প্রসঙ্গত, ৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। দেশের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এই মন্ত্রণালয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী প্রয়াত কল্পরঞ্জন চাকমা খাগড়াছড়ির প্রতিনিধি ছিলেন। রাঙামাটি থেকে দীপংকর তালুকদার একবার প্রতিমন্ত্রী হলেও তিনি ৬ বছরের ব্যবধানে ভোটে হেরে বসে যান। তার আগে বিএনপির টিকেটে উপমন্ত্রী হয়েছিলেন মণিস্বপন দেওয়ান। বাকি সময়টা বান্দরবান থেকে বীর বাহাদুর পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিমন্ত্রী হন কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা। উন্নয়ন বোর্ডে একবার মাত্র দুই বছরের জন্য চেয়ারম্যান পায় রাঙামাটিবাসী, বাকি সময়টতে অন্য দুই জেলাই ছিল ভাগ্যবান। যে কারণে রাঙামাটির উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবতার মুখ দেখেনি।

২০০৫ সালে সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। 

রাঙামাটির মানুষ এখন আশঙ্কা করছে, সহসা হয়তো এই মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রীর ঘোষণা নাও আসতে পারে। বাকিটা সময়ই বলে দিবে।
 

দুর্ভাগ্য যেন রাঙামাটিবাসীর পিছু ছাড়ছে না! জেলার উন্নয়নের স্বপ্নপথে আবারও অমানিশা

বুধবার গাজীপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পাট খাতকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের: পাটমন্ত্রী

সংরক্ষিত নারী এমপিদের প্রথম সভায় যেসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াতের সঙ্গে জোট করে রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন

দীর্ঘ বিরতির পর চতুর্থ মৌসুম নিয়ে ফিরছে কোক স্টুডিও বাংলা

ম্যানসিটির মায়া কি তাহলে ছেড়েই দিচ্ছেন গার্দিওলা?

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মিলবে ভূমিসেবা, বন্ধ হবে দুর্নীতি ও হয়রানি: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মিলবে ভূমিসেবা, বন্ধ হবে দুর্নীতি ও হয়রানি: প্রধানমন্ত্রী

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি

ম্যানসিটির মায়া কি তাহলে ছেড়েই দিচ্ছেন গার্দিওলা?

দীর্ঘ বিরতির পর চতুর্থ মৌসুম নিয়ে ফিরছে কোক স্টুডিও বাংলা

জামায়াতের সঙ্গে জোট করে রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন

সংরক্ষিত নারী এমপিদের প্রথম সভায় যেসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

পাট খাতকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের: পাটমন্ত্রী

বুধবার গাজীপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্ভাগ্য যেন রাঙামাটিবাসীর পিছু ছাড়ছে না! জেলার উন্নয়নের স্বপ্নপথে আবারও অমানিশা

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত